Translation is not possible.
শুনছেন? নিলাম হচ্ছে!
হ্যাঁ, এই একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সভ্যতার চকচকে হাটে আজ এক বিশাল নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।
এখানে কোনো প্রাচীন তৈলচিত্র বা রাজকীয় তরবারি বিক্রি হচ্ছে না, এখানে বিক্রি হচ্ছে ঈমান। বিক্রি হচ্ছে বিবেক, গায়রত আর আত্মসম্মান। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানেন? এই নিলামের ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ই আমরা। আমরা, যারা নিজেদের ‘খাঁটি মুসলমান’ বলে দাবি করি।
আমরা এতোটাই খাঁটি মুসলমান যে, শুক্রবার জুমার মসজিদে প্রথম কাতারে জায়গা না পেলে আমাদের মন খারাপ হয়, অথচ শনিবার সকালেই মোটা অঙ্কের ফি পকেটে পুরে একজন প্রমাণিত খুনি বা ধর্ষকের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করতে আমাদের বুক কাঁপে না।
এই চরম মুনাফালোভী, বিকৃত মনমানসিকতার অতল গহ্বরে আমরা এমনভাবে নিমজ্জিত হয়েছি যে, টাকার কাছে নিজের গায়রত, এমনকি সুযোগ পেলে নিজের পরিবারকেও বিক্রি করে দিতে আমাদের একমুহূর্ত দ্বিধা হয় না।
আমরা এক অদ্ভুত দ্বিচারিতায় ভুগছি। একদিকে আমরা নবীর উম্মত হওয়ার অহংকারে মাটিতে পা ফেলি না, অন্যদিকে পশ্চিমা প্রভুদের শেখানো ‘মানবিকতার’ ধোয়া তুলে নিজেদের ধর্মকেই প্রতিনিয়ত কাঠগড়ায় দাঁড় করাই।
আমাদের সমাজে এক নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়েছে, যাদেরকে আমরা ‘সুশীল মুসলিম’ বলে থাকি। এরা দেখতে শুনতে বেশ পরিপাটি, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং এদের ড্রয়িংরুমে বসে কফির কাপে ঝড় ওঠে ধর্মের ‘রিফর্মেশন’ নিয়ে।
তাদেরকে যখন মহান রবের নাযিলকৃত কোনো আয়াত বা হাদিস পড়ে শোনানো হয়, তখন তারা চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
“দেখুন, এভাবে সরাসরি আয়াতগুলোর আক্ষরিক অর্থ নিলে তো আজকের দুনিয়ায় চলা যাবে না। এমনটা না করে ওমনটা করলে বিষয়টা একটু বেশি মানবিক দেখায় না? আসুন না, আমরা এগুলোকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে একটু নতুনভাবে ব্যাখ্যা করি।”
এই সুশীলদের কাছে স্রষ্টার অমোঘ বাণীগুলো বড্ড সেকেলে, আনস্মার্ট!
অন্যরা দিনশেষে তাদের নিজ ধর্ম, নিজ বিশ্বাস ও দর্শনে ফিরে গেলেও, আমরা রয়ে গেছি এক অদৃশ্য দাসত্বে।
আমাদের পূর্বসূরিদের মাঝে এই হীনম্মন্যতার ছিটেফোঁটাও ছিল না, আর আজ আমরা এতোটাই সুশীল হয়েছি যে, দাসত্বের জিঞ্জিরকে নেকলেস ভেবে গলায় ঝুলিয়ে অহংকার করছি।
এই সুশীল বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো, তারা নিজেদের বক্র বুদ্ধিকে স্রষ্টার অসীম প্রজ্ঞার চেয়েও শ্রেষ্ঠ মনে করে। ফলে তারা কুরআন ও হাদিসের ইচ্ছেমতো ভুল ব্যাখ্যা করতে শুরু করে।
তাদের এমনই একটি প্রশ্ন বা ভুল ব্যাখ্যার নমুনা দিয়ে শুরু করা যাক। তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে, চোখে মুখে মানবিকতার মায়াকান্না মেখে প্রশ্ন করে:
“এই আধুনিক যুগে, মানবাধিকারের এই চরম উৎকর্ষের সময়ে, চোরের হাত কাটা বা কিসাস (প্রাণের বদলে প্রাণ)—এগুলো কি বড্ড আদিম আর অমানবিক নয়? আমরা যদি এগুলোর বদলে একটু 'মানবিক' শাস্তি দেই, যেমন সংশোধনাগারে রাখা, তাহলে কি ইসলামকে আরও সুন্দর ও স্মার্ট দেখায় না? কুরআনের এই আয়াতগুলোকে কি রূপক অর্থে নিয়ে যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত নয়?”
এই প্রশ্নের গভীরে লুকিয়ে আছে এক মারাত্মক অহংকার এবং অজ্ঞতা। প্রথমত, এই প্রশ্নটি প্রমাণ করে যে, প্রশ্নকর্তা নিজেকে পরম করুণাময় আল্লাহর চেয়েও বেশি দয়ালু এবং প্রজ্ঞাবান মনে করছে।
আসুন, পয়েন্ট টু পয়েন্ট এই ভ্রান্তির মূলোৎপাটন করি।
তারা বলছে কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড অমানবিক। কার জন্য অমানবিক? একজন নিরীহ মানুষকে যে ব্যক্তি নির্মমভাবে হত্যা করলো, সেই খুনির প্রতি এই আধুনিক সুশীলদের যত দরদ। কিন্তু যে মানুষটি তার প্রাণ হারালো, তার পরিবার যে আজীবনের জন্য পথে বসলো, তাদের জন্য এই সুশীলদের ‘মানবিকতা’ কোথায়?
আধুনিক বিচারব্যবস্থা যাকে ‘মানবিক’ বলছে, তা হলো—একজন খুনিকে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যুগের পর যুগ জেলের ভেতর তিন বেলা খাইয়ে পরিয়ে বাঁচিয়ে রাখা। এর নাম কি ন্যায়বিচার?
মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,
​"وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ"
“হে বুদ্ধিমানগণ! কিসাসের (প্রতিশোধের) মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পারো।” (সূরা বাকারাহ: ১৭৯)
খেয়াল করুন, আল্লাহ বলছেন মৃত্যুদণ্ডের ভেতর ‘জীবন’ রয়েছে!
কী অদ্ভুত এবং গভীর এক দর্শন! একজন খুনিকে যখন প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন সমাজের হাজারো অপরাধীর বুকে ভয় ঢুকে যায়। ফলে হাজারো নিরীহ মানুষের জীবন বেঁচে যায়।
আধুনিক পশ্চিমা জেলের দিকে তাকান; সেখানে অপরাধীরা যায় গ্যাংস্টার হিসেবে, আর জেল থেকে বের হয় মাস্টারমাইন্ড হয়ে। ইসলাম অপরাধীকে পোষে না, সমাজ থেকে অপরাধের মূলোৎপাটন করে।
আর চোরের হাত কাটার বিধান?
এই বিধানটি হলো চরম পর্যায়ের অপরাধের জন্য, যখন সমাজে যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত থাকে, অভাব বলতে কিছু থাকে না, তবুও কেউ শুধু লোভের বশবর্তী হয়ে চুরি করে।
ইতিহাস সাক্ষী, যখন এই বিধানগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালিত হতো, তখন মদিনার রাস্তায় সোনা পড়ে থাকলেও কেউ তা ছুঁয়ে দেখতো না। আর আজ আপনাদের এই ‘স্মার্ট’ ও ‘মানবিক’ আইনের যুগে মানুষ নিজের ঘরের ভেতরেই নিরাপদ নয়।
আপনারা স্রষ্টার আইনকে আনস্মার্ট বলছেন?
মূলত আপনাদের বুদ্ধিই বিকৃত হয়ে গেছে। আপনারা রোগীর শরীরে ক্যান্সার পুষে রেখে তাকে পেইনকিলার দিয়ে ‘মানবিক’ হওয়ার ভান করছেন, আর ইসলাম চায় সার্জারি করে ক্যান্সারটিকেই কেটে ফেলতে, যাতে পুরো শরীর বেঁচে যায়। কোনটা বেশি যৌক্তিক?
আমার ভাষায় বলতে হয়:
“যে বিবেক আজ বিক্রি হলো সস্তায়, বাজারের ওই কোণে,
সে তো জানতই না, তার দাম লেখা ছিল আরশের ওই সোপানে।
মানুষের কাছে স্মার্ট হতে গিয়ে হারিয়েছ নিজ পরিচয়,
প্রভুর আদালতে এই ভণ্ডামির হবে না কোনোই জয়।”
এই সুশীলদের আরেকটা খুব প্রিয় টপিক হলো নারী অধিকার। তারা কফি শপে বসে নারীবাদী ধোঁয়া উড়িয়ে প্রশ্ন করে:
“ইসলামে কি নারীদের অধিকার কম দেওয়া হয়নি? উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে ভাইয়ের অর্ধেক বোনকে দেওয়া হয়, সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান ধরা হয়—এগুলো কি আজকের যুগের 'ইকুয়ালিটি' সাথে বেমানান নয়? এগুলোকে কি আধুনিক সাম্যের দৃষ্টিতে নতুন করে ব্যাখ্যা করে সমান সমান করে দেওয়া উচিত নয়?”
এটি হলো আধুনিক মগজধোলাইয়ের সবচেয়ে নিখুঁত উদাহরণ। এরা ‘ইকুয়ালিটি’ এবং ‘জাস্টিস’ -এর মধ্যকার পার্থক্যই বোঝে না। আসুন, এই ভুল ব্যাখ্যার ব্যবচ্ছেদ করি।
ইসলাম নারী ও পুরুষকে ‘সমান’ করার এক হাস্যকর প্রতিযোগিতায় নামায়নি, বরং ইসলাম তাদের মাঝে ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে একজন ছেলে যা পায়, মেয়ে তার অর্ধেক পায়—এই আয়াতটি পড়েই সুশীলরা লাফিয়ে ওঠে। কিন্তু তারা ইসলামের পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে তাকায় না।
ইসলামে একজন পুরুষের ওপর তার স্ত্রীর মোহরানা, সম্পূর্ণ ভরণপোষণ, সন্তানদের খরচ, এমনকি বৃদ্ধ পিতা-মাতার দায়িত্বও বাধ্যতামূলকভাবে চাপানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একজন নারী কন্যা হিসেবে পিতার কাছে, স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছে এবং মা হিসেবে সন্তানের কাছে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। তার নিজের উপার্জিত অর্থ বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের এক কানাকড়িও পরিবারের জন্য খরচ করতে সে বাধ্য নয়; পুরোটাই তার নিজস্ব সম্পত্তি।
এখন চিন্তা করুন, একজন পুরুষ ১০০ টাকা পেল, কিন্তু তাকে সেখান থেকে ৮০ টাকা পরিবারের জন্য খরচ করতে হচ্ছে। আর একজন নারী পেল ৫০ টাকা, যার পুরোটাই তার পকেটে থাকছে। দিনশেষে কার কাছে বেশি সঞ্চয় থাকছে?
ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক দায়মুক্তি দিয়ে অর্ধেক দিয়েছে, আর আপনারা আধুনিকতার নামে নারীকে রাস্তায় নামিয়ে, ঘানি টানিয়ে সমান দেওয়ার মুলা ঝুলিয়ে তাকে চরম শোষণের শিকার বানাচ্ছেন।
আর সাক্ষ্যের বিষয়ে যে আয়াতের (সূরা বাকারাহ: ২৮২) কথা বলা হয়, সেটি শুধুমাত্র আর্থিক চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেখানে আল্লাহ স্পষ্ট কারণও বলে দিয়েছেন, “যাতে একজন ভুলে গেলে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।”
আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জটিলতায় সে যুগে (এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ যুগেও) নারীদের সম্পৃক্ততা কম থাকাই স্বাভাবিক। এটি স্মরণশক্তির দুর্বলতা নয়, এটি হলো অভিজ্ঞতার ভিন্নতা।
অথচ মজার ব্যাপার হলো, চিকিৎসা, নারীদের ব্যক্তিগত বিষয় বা শিশু জন্মদানের মতো অসংখ্য ক্ষেত্রে যেখানে নারীদের অভিজ্ঞতা বেশি, সেখানে ইসলামে একজন নারীর সাক্ষ্যই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়, কোনো পুরুষের সাক্ষ্য সেখানে গ্রহণযোগ্যই নয়!
কই, সুশীলরা তো এই কথাগুলো কখনো বলে না? তারা শুধু নিজেদের অর্ধেক পড়া বিদ্যা দিয়ে স্রষ্টার আইনকে তাদের ক্ষুদ্র মাপকাঠিতে বিচার করতে চায়।
আমরা আজ এতটাই হীনমন্য যে, এই পশ্চিমা মাপকাঠিতে নিজেদেরকে পাস করানোর জন্য আমরা আমাদের ধর্মকে প্রতিনিয়ত কাটছাঁট করছি।
অথচ একবার ফিরে তাকান আমাদের পূর্বসূরিদের দিকে, সেই সালাফ আস-সালেহীনদের জীবনের দিকে। তাদের জীবনটা কেমন ছিল?
তাদের কোনো হীনম্মন্যতা ছিল না। তারা পারস্যের বিশাল সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদে সেনাপতি রুস্তমের সামনে গিয়ে ছেঁড়া জামা আর ছোট ঘোড়া নিয়ে এমনভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, যেন পুরো পৃথিবীটা তাদের পায়ের নিচে। তারা গদগদ হয়ে বলেননি যে, "দেখুন, আমাদের ধর্মটা খুব শান্তির, আমরা আপনাদের সাথে কোনো ঝামেলা চাই না।"
বরং তারা বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, "আমরা এসেছি মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে বের করে, মানুষের রবের দাসত্বের দিকে নিয়ে যেতে।" তাদের কাছে সত্য ছিল নগ্ন তরবারির মতো স্পষ্ট।
সালাফদের দিনগুলো কাটতো ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠায় আর রাতগুলো কাটতো রবের সামনে জায়নামাজে চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে।
খলিফা উমর (রা.)-এর কথা ভাবুন। যিনি অর্ধেক পৃথিবীর শাসক, তিনি মদিনার রাস্তায় রাতে টহল দিতেন সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার জন্য। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সামান্য মোমবাতিও তিনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন না। আর আজ আমরা?
আমরা সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য অন্যের জমি দখল করতে কোর্টে মিথ্যা সাক্ষী সাজাই, আর তারপর হজ করে এসে নামের আগে ‘হাজী’ লাগিয়ে সমাজে সম্মান খুঁজি।
আমাদের পূর্বসূরিরা যখন কুরআন পড়তেন, তখন কুরআনের আয়াত তাদের আত্মাকে কাঁপিয়ে দিত। আর আজ আমরা কুরআনের আয়াতগুলো পড়ি শুধু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতার জন্য, অথবা সুমধুর সুরে রেকর্ড করে ইউটিউবে ভিউ বাড়ানোর জন্য। আমাদের গলা থেকে কুরআন আর হৃদয়ে প্রবেশ করে না।
আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, ইসলামের যে বিষয়গুলো পশ্চিমাদের কাছে অপছন্দনীয়, আমরা সেগুলোকে লুকিয়ে রাখতে চাই। কেউ জিহাদ বা হুদুদ (শাস্তি) নিয়ে কথা বললে আমরা আঁতকে উঠি।
আমরা এমন এক 'কিউট' এবং 'কমফোর্টেবল' ইসলাম তৈরি করেছি, যা শুধু মিলাদ, দোয়া আর জিলাপি বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে ইসলাম বাতিলের চোখের দিকে তাকিয়ে হুংকার দেয় না, যে ইসলাম জালিমের হাত চেপে ধরে না, যে ইসলাম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা সুদ, ঘুষ আর বেহায়াপনাকে চ্যালেঞ্জ করে না—সেই ইসলাম আর যাই হোক, মুহাম্মদ (সা.)-এর নিয়ে আসা ইসলাম নয়।
“দাসত্বের জিঞ্জির পরে ভাবছ তুমি স্বাধীন,
প্রভুর চেয়ে মানুষের কাছেই তুমি চিরঋণ।
ফিরে চলো সেই মরুভূমিতে, যেখানে সত্য ছিল নগ্ন,
মিথ্যার এই প্রাসাদে আজ তোমার ঈমান মগ্ন।”
আপনারা যারা স্রষ্টার আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে নিজেদের আধুনিক ও প্রগতিশীল দাবি করছেন, তাদের কাছে আমার একটিই জিজ্ঞাসা—আপনাদের এই প্রগতিশীলতার শেষ গন্তব্য কোথায়? আপনারা কি আসলেই মনে করেন যে, আপনাদের এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক, যা গতকালের ভুল আজ স্বীকার করে এবং আজকের সত্য আগামীকাল পরিবর্তন করে, সেই মস্তিষ্ক মহাবিশ্বের স্রষ্টার অসীম জ্ঞানের চেয়ে বেশি নিখুঁত?
আপনারা মানবিকতার দোহাই দিয়ে যে সমাজ গড়ে তুলেছেন, সেই সমাজ তো আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত। আপনাদের শেখানো সাম্য, স্বাধীনতা আর মানবাধিকারের বুলিতে আজ পৃথিবীর প্রতিটি কোণে রক্তের বন্যা বইছে।
সময় এসেছে এই হীনম্মন্যতার খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার। সময় এসেছে আবার সেই পুরোনো, খাঁটি, নির্ভেজাল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার। কুরআন কোনো থিসিস পেপার নয় যে, যুগের বাতাসে আপনি এর উপসংহার পরিবর্তন করবেন। এটি রব্বুল আলামীনের সরাসরি কালাম। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বিধান কিয়ামত পর্যন্ত নিখুঁত এবং অকাট্য। যদি কোনো বিধান আপনার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে না ধরে, তবে নিজের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করুন, স্রষ্টার প্রজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না।
আমাদের আত্মাকে জাগাতে হবে। এই সস্তা দুনিয়ার নিলামে নিজেকে আর বিক্রি হতে দেওয়া যাবে না। টাকার পাহাড়, ক্যারিয়ার, কিংবা তথাকথিত সুশীল সমাজের হাততালি—এগুলোর কোনোটিই কবরের অন্ধকারে আপনার সঙ্গী হবে না। সেখানে আপনার একমাত্র পরিচয় হবে, আপনি কি সত্যের সামনে মাথা নত করেছিলেন, নাকি অহংকার করে সত্যকে নিজের মনের মতো বাঁকিয়ে নিয়েছিলেন। আর কোনো আপস নয়। আর কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব নয়। ফিরে আসুন সেই সালাফদের মেরুদণ্ড সোজা করা আত্মমর্যাদার দিকে।
কারণ, যে জাতি তার স্রষ্টার আইনের চেয়ে মানুষের তৈরি আইনকে বেশি সম্মান করে, সে জাতি কেবল পৃথিবীর বুকেই লাঞ্ছিত হয় না, বরং অনন্তকালের জন্য নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে। জেগে উঠুন, কারণ সত্য সমাগত, আর মিথ্যা চিরকালই বিলুপ্ত হওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছে।
[আধুনিকতার হাটে সুশীল দাসত্ব]
লেখা: Syed Mucksit Ahmed
image
Send as a message
Share on my page
Share in the group